আশুরার রোজার কারণে আল্লাহ তাআলা অতীতের এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।

জালিম সাম্রাজ্য যত শক্তিশালী হোক না কেন, তার পতন হবেই। জালিম ও স্বৈরাচারীরা অভিশপ্ত হয়ে ইতিহসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়। যার প্রমান ইয়াজিদের রাজত্ব, যার পতন হয়েছিল মাত্র চার বছরের মধ্যে ইয়াজিদের মৃত্যুর মাধ্যমে। মৃত্যুর কয়েক দিনের মাথায় তার পুত্রেরও মৃত্যু হয়। এবং এই পরিবার ভবিষ্যতে আর কোনদিন শাসন ক্ষমতা লাভ করতে পারেনি।

আজ পবিত্র আশুরা। আশুরা রোজার ফজিলত সম্পর্কে রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমি আশাবাদী যে, আশুরার রোজার কারণে আল্লাহ তাআলা অতীতের এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।’ (মুসলিম : ২৮০৩)।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘আমি রসুলুল্লাহ (সা.) কে রমজান ও আশুরায় যেরূপ গুরুত্বের সঙ্গে রোজা রাখতে দেখেছি অন্য সময় তা দেখিনি।’ (বুখারি : ১৯০২)।
১০ মহররম আজকের এই দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) ও তার পরিবার এবং অনুসারীরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হন। শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে তাদের এই আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল রয়েছে। কারবালার শোকাবহ এ ঘটনা অর্থাৎ পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী হচ্ছে সবাইকে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে চলতে প্রেরণা জোগায়।
আশুরার রোজা নবী কারিম (সা.) এর আমলেই শুরু হয়। নবী করিম (সা.) মক্কায় থাকতেও আশুরার রোজা পালন করতেন। হিজরতের পর মদিনায় এসে নবী(সা.) দেখতে পান যে ইহুদিরাও এই দিনে রোজা রাখছে। তাই নবী কারিম (সা.) এই দিনে রোজা রাখার কারণ জানতে চাইলেন। মুসা (আ.) সিনাই পাহাড়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওরাত কিতাব লাভ করেন। এই দিনেই তিনি বনি ইসরাইলদের ফেরাউন থেকে উদ্ধার করেন এবং তাদের নিয়ে লোহিত সাগর অতিক্রম করেন। আর ফেরাউন সেই সাগরে ডুবে মারা যান। তাই কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য ইহুদিরা এই দিন রোজা রাখে।
এরপর মহানবী (সা.) বললেন, মুসা (আ.)-এর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক তাদের চেয়ে বেশি ঘনিষ্ঠ। এরপর তিনি ১০ মহররমের সঙ্গে ৯ মহররম অথবা ১১ মহররম মিলিয়ে ২টি রোজা রাখতে বললেন।
আজকের এই দিন থেকে শিক্ষা :- সকল অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা যেন সবাই শান্তিতে বসবাস করতে পারে।সবাই যেন আল্লাহ কে ভয় করে এবং সকল পাপ কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখে। জালিমের সংগে আপোষ নয় প্রয়োজনে নিজের জীবন দিয়ে হলেও অন্যায় ও জুলুমের প্রতিবাদ করতে হবে।