ছবি অনেক কথা বলে।


ক্যামেরার চোখ কে কেউ কোনদিন ফাঁকি দিতে পারেনি।
এই ছবিটি তৎকালীন সরকার প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের বাসস্থানে অবস্থিত অফিস ঘরের ছবি।

ছবিটি তে দেখা যাচ্ছে শেখ মুজিবুর রহমানের পেছনে দু’টো ছবি আছে। পিছনের দু’টো ছবির একটি ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর অপর ছবিটি পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টোর সাথে করমর্দনরত শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি।

আমি ইন্দিরা গান্ধী কিম্বা জুলফিকার আলী ভুট্টোর ছবি থাকা নিয়ে কোন সমালোচনা করতে চাইনা।
প্রতিটি মানুষ তার অফিস ঘরে কিম্বা শোবার ঘরে তার সবচেয়ে প্রিয় এবং কাছের মানুষের ছবি রাখে।
উনিও ওনার সবচেয়ে কাছের এবং সবচেয়ে প্রিয় মানুষদের ছবি রেখেছেন।
এটা শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত ব্যাপার।

ইন্দিরা গান্ধীর যায়গায় উনি মেরিলিন মনরো কিম্বা সুচিত্রা সেন এর ছবি রাখলেও আমি কোন সমালোচনা করতাম না।

তবে এই ছবিটি তে একটি ব্যাপার দেখে আমার কাছে ভীষণ খটকা লেগেছে।
এই ছবিতে থাকা বিশেষ একটি জিনিষ সকলের দৃষ্টিকে এড়িয়ে গেছে।
ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে ওনার রুমে তিনটি টেলিফোন সেট যার মধ্যে একটি বাসার মধ্যে ব্যাবহারের জন্য ইন্টারকম, একটি আন্তর্জাতিক কলের জন্য ভিভিআইপি নাম্বার অন্যটি লোকাল কলের জন্য।

শুনেছি শেখ মুজিবুর রহমান নাকি বেশিরভাগ সময়ই লোকাল কলের জন্য নির্ধারিত ফোনটির রিসিভার নামিয়ে রাখতেন, যাতে লোকাল কল গুলো তাকে রিসিভ করতে না হয়।
লোকাল ফোনে কল এলে তিনি ডিস্টার্ব ফিল করতেন।

ছবি তোলার আগে তিনি বোধ হয় ভুলেই গিয়েছিলেন যে তিনি লোকাল কলের জন্য নির্ধারিত ফোনের রিসিভারটি নামিয়ে রেখেছেন।
চাটুকার সাংবাদিকরা অন্ধ হলেও ক্যামেরা তো অন্ধ নয় তাই ক্যামেরা ঠিকই ব্যাপারটি কে কয়েদ করেছে।

যে সমস্ত নেতারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে ডিস্টার্বের ভয়ে রাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখে আমি সেই সমস্ত নেতাদের কে ঘৃণা করি।
হোক না সে অনেক বড় কোন নেতা।

Editorial: Arif Hassan Rahul, Malaysia