আদিবাসী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ

বিশেষ করেসপন্ডেন্ট:– ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার এক আদিবাসী নারীকে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় নিয়ে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ওই নারী ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ভাড়াবাসায় থাকেন। ফলে স্থানের জটিলতায় এ ঘটনার পর এক সপ্তাহ বেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো মামলা হয়নি। তবে পুলিশ বিষয়টি জেনেছে বলে জানিয়েছেন।

‘ধর্ষণের শিকার’ ওই নারীর অভিযোগ, ফুলবাড়িয়া উপজেলার হাতিলেট গ্রামের উজ্জ্বল তাঁকে গত ৩ জুলাই ফোন করে জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে ফুলবাড়িয়ায় ডাকিয়ে আনেন। পরে তাঁকে হুমকি দিয়ে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে নিয়ে একটি ঘরে আটকে রেখে লাগাতার ধর্ষণ করে। এ ছাড়া তাঁর কাছে থাকা স্বামীর এক লাখ ৩০ হাজার টাকাও হাতিয়ে নেয় উজ্জ্বল। পরে তাঁকে একটি জঙ্গলে ফেলে পালিয়ে যায়।

‘ভুক্তভোগী’ ওই নারীর স্বামী একজন প্রবাসী। তাঁদের দুটি সন্তানও রয়েছে।

এ ব্যাপারে ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুর রহমান জানান, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। ঘটনাস্থল টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায়। ওই নারী ভালুকায় বসবাস করেন। মামলা করতে হলে গোপালপুরে করতে হবে। এরপরেও তিনি একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে পাঠিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন বলে আশ্বাস দেন।

আদিবাসী ওই নারী আরো অভিযোগ করেন, ধর্ষণের কথা কাউকে বললে তাঁর দুই ছেলেকে মেরে ফেলা এবং তাঁর মা-বাবাকে সমাজচ্যুত করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ওই ঘরে পাঁচদিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর গত বুধবার দুপুরে তাঁকে ফুলবাড়িয়ার একটি জঙ্গলে রেখে পালিয়ে যায় উজ্জ্বল। পরে উজ্জ্বলের বড়ভাই সিরাজুল ওই নারীকে উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। ওইদিন সন্ধ্যায় বাবুলের বাজার এলাকায় উজ্জ্বলের ভাই সিরাজুল, সেকান্দর মেম্বার ও মাসুদ মেম্বার মিলে সালিশ বৈঠক করেন। পরে ওই নারীকে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে নিজের জিম্মায় নেন সিরাজুল।

সালিশ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ফুলবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও হাতিলেট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শহীদুজ্জামান আকন্দ। তিনি আজ শুক্রবার বলেন, ‘গত বুধবার সন্ধ্যায় বাবুলের বাজারে সালিশে উজ্জ্বলের ভাই সিরাজুল, সেকান্দর ও মাসুদ মেম্বার মিলে সালিশ দরবার করি। সমাজ গ্রহণ না করায় ওই নারীকে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে নিজের জিম্মায় নেন সিরাজুল।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত উজ্জ্বল তাঁর আত্মীয় হন বলে জানান শহীদুজ্জামান। ওই নারীর বাবা স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মেয়ে তাঁর সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য ভালুকায় ভাড়াবাসায় বসবাস করে। ৩ জুলাই শুক্রবার আমার মেয়ে বাজার করার জন্য ভালুকা বাজারে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। ঘটনাটি ট্রাইবাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লুইস সাংমাকে জানানো হয়েছে।