হারালাম এক পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাকে, প্রধানমন্ত্রী।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এক বার্তায় শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে সাহারা খাতুন গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আজীবন কাজ করে গেছেন এবং দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে আইনিসহ সব সাহায্য-সহযোগিতা প্রদান করেছেন। ‘সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে দেশ ও জাতি একজন দক্ষ নারীনেত্রী এবং সৎ জননেতাকে হারাল। আমি হারালাম এক পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাকে,’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর শোকবার্তায় মরহুমার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৬ জুলাই সাহারা খাতুনকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে থাইল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন আওয়ামী লীগের এই প্রবীণ নেতা। গত ২ জুন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য সাহারা খাতুন জ্বর, অ্যালার্জিসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবস্থার অবনতি হলে ১৯ জুন তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। এরপর অবস্থার উন্নতি হলে ২২ জুন তাঁকে আইসিইউ থেকে এইচডিইউতে (হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট) স্থানান্তর করা হয়। ২৬ জুন সকালে তাঁর শারীরিক অবস্থার আবারও অবনতি হয়। ফের নেওয়া হয় আইসিইউতে। একটু ভালো হওয়ার পর ৬ জুলাই তিনি থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।

সাহারা খাতুন ১৯৪৩ সালের ১ মার্চ ঢাকার কুর্মিটোলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা আবদুল আজিজ ও মা টুরজান নেসা। সাহারা খাতুন স্নাতক ও এলএলবি ডিগ্রি সম্পন্ন করে আইনপেশায় যোগ দেন। ছাত্রজীবনেই তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। এর পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক মহিলা আইনজীবী সমিতি ও আন্তর্জাতিক মহিলা জোটের সদস্য ছিলেন।

সাহারা খাতুন ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী হন। এরপর দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হলেও মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি।