বাংলাদেশে করোনায় চিকিৎসকের মৃত্যৃ, আক্রান্ত সাড়ে ৩ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী

দেশে করোনাভাইরাস ধরা পড়ার পর থেকে আজ রোববার পর্যন্ত ৩৮ জন চিকিৎসক মারা গেছেন। এর মধ্যে ৩৩ জনের সরাসরি করোনা পজিটিভ আসে। বাকি পাঁচজন করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। এদের মধ্যে গত ১৪ দিনে মারা গেছেন ২২ জন চিকিৎসক। এ ছাড়া সারা দেশে এ পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজার চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আক্রান্ত হয়েছেন

আজ রোববার বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশন (বিডিএফ) ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) পক্ষ থেকে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. মো. শাহেদ রফি পাভেল বলেন, সারা দেশে করোনাভাইরাসে আজ রোববার দুপুর পর্যন্ত এক হাজার ১৯০ জন চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন। মোট চিকিৎসক মারা গেছেন ৩৮ জন। এর মধ্যে ৩৩ জন সরাসরি করোনা পজিটিভ নিয়ে মারা যান। বাকি পাঁচজন উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। সুস্থ হয়েছেন ৬৫৪ জন চিকিৎসক।

অপরদিকে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তাফা জালাল মহিউদ্দীন ও মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ পর্যন্ত সারা দেশে চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ আক্রান্ত হয়েছেন সাড়ে তিন হাজার স্বাস্থ্যকর্মী। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এক হাজার ১৯০ জন চিকিৎসক, এক হাজার দুজন নার্স ও এক হাজার ৩০৮ জন অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বিডিএফের তালিকা অনুযায়ী, করোনায় এপ্রিল  মাসে  প্রথম  একজন, মে মাসে ১০ জন এবং জুন মাসের ১৪ দিনে ২২ জন চিকিৎসক মারা গেছেন।  প্রথম মৃত্যুবরণ করা চিকিৎসক হলেন- সিলেট মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মঈন উদ্দীন আহমেদ। তিনি মারা যান ১৫ এপ্রিল। মে মাসে মারা গেছেন ১০ জন চিকিৎসক। এদের বেশির ভাগই সিনিয়র চিকিৎসক। তাঁরা কেউ ছিলেন অধ্যাপক, কেউ বা কনসালট্যান্ট। তাঁদের বেশির ভাগই কর্মরত অবস্থায় করোনার চিকিৎসা দিতে গিয়ে মারা যান।

৩ মে মারা যান হেমাটোলজিস্ট এবং ল্যাবরেটরি মেডিসিন স্পেশালিস্ট, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক কর্নেল (অব.) ডা. মো. মনিরুজ্জামান। তিনি মারা যান ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে।

১২ মে মারা গেছেন বিশিষ্ট রেডিওলজিস্ট ইবনে সিনা কনসালটেশন সেন্টার রেডিওলজি বিভাগের প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) ডা. আবুল মোকারিম ম. মোহসিন উদ্দিন। তিনিও মারা যান ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে।

১৮ মে দুজন মারা যান। এঁরা হলেন মুগদা জেনারেল হাসপাতালে মারা যান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ১৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. মো. আজিজুর রহমান রাজু ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের নবম ব্যাচের সাবেক ছাত্র ও লালবাগের জেনারেল প্রাকটিশনার ডা. সরওয়ার ইবনে আব্দুল আজিজ।

২২ মে দুজন মারা যান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক ডা. এম এ মতিন সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে মারা যান। একই দিন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. কাজী দিলরুবা ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা যান।

২৬ মে দুজন মারা যান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান গাইনি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আমিনা খান। একই দিন এনেসথেশিয়া ও আইসিইউ বিশেষজ্ঞ ডা. আবদুর রহমানের মৃত্যু হয়।

২৭ মে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে মারা যান বরিশাল মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক বিভাগের সাবেক প্রধান ডা. মো. মোশাররফ হোসেন।

৩১ মে আর্মি মেডিকেল কোরের ক্যাপ্টেন (অব.) ডা. এ এফ এম সাইদুল ইসলাম ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা যান।

১ জুন বিশিষ্ট বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. ওয়াহিদুজ্জামান আকন্দ বাবলু মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন।

২ জুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান ডা. মনজুর রশিদ চৌধুরী। তিনি ইউরোলজি বিশেষজ্ঞ ছিলেন।

৩ জুন তিনজন মারা যান। চট্টগ্রাম মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (মেডিসিন) ডা. এ এস এম এহসানুল করিম মারা যান। একই তারিখে ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. মহিউদ্দিন মারা যান। ঢাকার হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। একই দিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত ইভালুয়েশন অফিসার ডা. কে এম ওয়াহিদুল হক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

৪ জুন তিনজন মারা যান। বিশিষ্ট ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে মারা যান। একইদিন মারা যান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইএমও ডা. মুহিদুল হাসান এবং  উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এহসানুল কবির চৌধুরী।

৫ জুন বিশিষ্ট ইউরোলজিস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ডা. এস এ এম গোলাম কিবরিয়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

৬ জুন ঢাকার সাভার ইপিজেডের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র মেডিকেল অফিসার আবুল কাশেম খান মারা যান।

৭ জুন স্কয়ার হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও পরিচালক (মেডিকেল সার্ভিস) ডা. মির্জা নাজিম উদ্দিন মারা যান।

৮ জুন দুজন মারা যান। বেসরকারি হাসপাতালের ডা. রাজিয়া সুলতানা ও ল্যাব এইড হাসপাতালের অ্যানেসথেশিয়ার কনসালট্যান্ট ডা. সাখাওয়াত হোসেন।

৯ জুন দুজন মারা যান। রাহাত আনোয়ার হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. আনোয়ার হোসেন মারা যান। একইদিন ইমপালস হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট অধ্যাপক ডা. জলিলুর রহমান মারা যান।

১০ জুন মেরী স্টোপস ক্লিনিকের হেড অব কোয়ালিটি ও মেটারনিটি বিভাগের ডা. তানজিলা রহমান মারা যান।

১২ জুন তিনজন মারা যান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. গাজী জহিরুল হাসান, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহমুদ মনোয়ার এবং জেড এইচ সিকদার উইমেন্স মেডিকেল কলেজের চক্ষু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল হক কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে মারা যান।

১৩ জুন দুজন মারা যান। ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. আরিফ হাসান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং বিআরবি হাসপাতালের আইসিইউপ্রধান এবং অ্যানেস্থিসিয়োলজির সাবেক সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাজ্জাদ হোসাইন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

সর্বশেষ আজ ১৪ জুন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডা. সাদেকুর রহমান মারা গেছেন।

এ ছাড়া উপসর্গ নিয়ে যে পাঁচজন চিকিৎসক মারা গেছেন তাঁরা হলেন ১১ মে অধ্যাপক ডা. আনিসুর রহমান, ২২ মে ডা. জাফর হোসাইন রুমি, ২৮ মে ডা. তাজউদ্দীন,  ৩ জুন অধ্যাপক ডা. মাহবুবুর রহমান খান ও ৪ জুন অধ্যাপক ডা. এন এল খান।