চিনে করোনা, এক দিনে নতুন আক্রান্ত ৫৭,

চিনে কি করোনাভাইরাসের ‘দ্বিতীয় ঢেউ’? এই প্রশ্ন শুধু বেজিং নয়, গোটা বিশ্বেই বাড়ছে উদ্বেগ। এক দিনে নতুন করে চিনে ৫৭ জন নতুন আক্রান্তের সন্ধান মিলল চিনে। এপ্রিলে করোনামুক্ত ঘোষণা হওয়ার পর এক দিনে এটাই চিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যা। ফলে এক বার করোনা আক্রান্তের সংখ্যা শূন্য হওয়ার পরেও ফের ফিরে আসতে পারে বলে যে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, সেটাই সত্যি হতে চলেছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। পাশাপাশি আক্রান্ত এলাকায় নতুন করে জারি হয়েছে লকডাউনের নির্দেশিকা।

চিনের জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে নতুন আক্রান্ত ৫৭ জনের মধ্যে ৩৬ জনই বেজিংয়ের বাসিন্দা। তাঁরা সবাই দক্ষিণ বেজিংয়ের একটি মাংস ও সব্জি বাজার লাগোয়া একাধিক আবাসনের বাসিন্দা। দু’জন নতুন আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে উত্তর-পূর্বের লিয়াওনিং প্রদেশে। তবে তাঁরা বেজিংয়ের আক্রান্তদের সংস্পর্শে এসেছিলেন। বাকি আক্রান্তরা বিদেশ থেকে ফিরেছেন বলে জানিয়েছে চিনের স্বাস্থ্য প্রশাসন।  কিন্তু দেশের অভ্যন্তরে নতুন করে কী ভাবে আক্রান্ত হলেন, তা নিয়েই দুশ্চিন্তা বেড়েছে প্রশাসনের। কারণ, তাঁদের কেউ কোনও আক্রান্তের সংস্পর্শে এসেছেন, এমন প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।  কোনও খাবার থেকে তাঁরা সংক্রমিত হতে পারেন— এমন আশঙ্কাও রয়েছে। শুরু হয়েছে নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা।  করোনা সংক্রমণের এই নতুন ক্লাস্টার নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে শি চিনফিং প্রশাসনের। নতুন করে লকডাউন ও অন্যান্য বিধিনিষেধ  কার্যকর হয়েছে ওই বাজার এলাকায়।  এ ছাড়া ১১টি আবাসনের  বাসিন্দাদের ঘর থেকে বাইরে বেরনো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নজরদারি চালাচ্ছেন পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকরা। পাশাপাশি ওই এলাকার নাগরিকদের তালিকা ধরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা করা হচ্ছে। ওই বাজারে যাঁরা গিয়েছিলেন, তাঁদের টেস্ট করা হচ্ছে। শহরের প্রায় সব মার্কেটের উপর শুরু হয়েছে নজরদারি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা।সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, মাস্ক, গ্লাভস পরা কয়েকশো পুলিশকর্মী-অফিসার এবং প্রচুর আধাসেনাকে ওই বাজারে মোতায়েন করা হয়েছে। পিপিই, মাস্ক, গ্লাভস পরে টহল দিচ্ছেন তাঁরা। বেজিং মার্কেট নজরদারি কর্তৃপক্ষ নতুন করে খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত গাইডলাইন জারি করেছেন। হিমায়িত কাটা মাংস, পোল্ট্রি, মাছ  বাজার, বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যের গুদাম ও সরবরাহকারী সংস্থার অফিসে তল্লাশি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়েছে। এ ছাড়া হাইস্কুল ও নার্সারি স্কুলগুলি খোলার সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।  নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে খেলাধুলা, পার্টি, আন্তঃরাজ্য যাতায়াতের উপরেও।

চিনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকেই প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সারা বিশ্বে ছড়িয়েছিল। টানা ৭৮ দিন  কঠোর লকডাউনের পর এপ্রিলের মাঝামাঝি উহানকে করোনামুক্ত ঘোষণা করে চিন। তার মাসখানেক পর উহানেই নতুন একটি করোনা ক্লাস্টারের সন্ধান মেলে। সেটাও প্রায় নিয়ন্ত্রণে এসে গিয়েছিল। কিন্তু নতুন এই ক্লাস্টারের সন্ধান মিলেছে খাস রাজধানীতে। স্বাভাবিক ভাবেই নতুন করে শি চিনফিংয়ের কপালের ভাঁজ চওড়া হয়েছে।