করোনায় ভিআইপি লাইভস ম্যাটার, গরিব মানুষের জীবন উপেক্ষিত : রিজভী

করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলা প্রধানমন্ত্রীর কাছে শুধু ‘ভিআইপি লাইভস ম্যাটার’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। আজ রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর দলের মন্ত্রী, এমপি, মেয়র, নেতা ও ভিআইপিদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিচ্ছেন। তাদের জন্য দ্রুততার সাথে সিএমএইচ, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, হেলিকপ্টার, আইসিইউ, ভেন্টিলেটরসহ সব সুবিধা নিশ্চিত করছেন। কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষগুলো চিকিৎসা না পেয়ে রাস্তাতেই মারা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তাদের কোনো খবর নিচ্ছেন না । রিজভী বলেন, কারণ জাতীয় নিশুতি রাতের নির্বাচনের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মসনদে থাকতে দেশের সাধারণ মানুষের কোনো প্রয়োজন হয় না। তাঁর (প্রধানমন্ত্রী) কাছে শুধুই ‘ভিআইপি লাইভস ম্যাটার’। গরিব মানুষের জীবন উপেক্ষিত।

বর্তমান দেশে ‘চিকিৎসা বৈষম্য ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে’ বলে মন্তব্য করেন রিজভী।

করোনাভাইরাস সংক্রমণে আক্রান্তরা চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে না অভিযোগ করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব  বলেন, ঢাকায় কোনো হাসপাতালেই আইসিইউ বেড খালি নেই, কোনো কোনো বেসরকারি হাসপাতালে করোনার ওয়ার্ড খুললেও আইসিইউ বেড ও চিকিৎসার জন্য গলা কাটা দাম নিচ্ছে। রিজভী বলেন, তিন মাসে করোনা উপসর্গ নিয়ে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে সিংহভাগ মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা পায়নি। বেঁচে থাকাবস্থায় নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে পারেনি তারা করোনা আক্রান্ত কি না। বিএনপি এ নেতা বলেন, সরকারের অবহেলার কারণে বাংলাদেশে করোনা শনাক্তকরণও সঠিকভাবে হচ্ছে না। করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা কিটও ত্রুটিপূর্ণ। জাপানে বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চাটার্ড ফ্লাইট চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে জাপান সরকার। করোনাভাইরাসের নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়েও চার বাংলাদেশির শরীরে করোনা সংক্রামণ ধরা পড়ায় এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দেশটি। এই চার বাংলাদেশির হেলথ সার্টিফিকেটে বলা ছিল, তারা করোনায় আক্রান্ত নন এবং ভ্রমণে তাদের নিষেধাজ্ঞা নেই। এভাবে বাংলাদেশের করোনা টেস্ট নিয়ে যদি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই ধরনের নেতিবাচক বার্তা যায় তাহলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যয় বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে রিজভী বলেন, করোনাত্তোর অর্থনৈতিক মন্দাকে সামনে রেখে বিভিন্ন দেশে সরকারি ব্যয় সংকোচনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন দেশের প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রী নিজেদের ব্যয় কমিয়ে দৃষ্টান্ত করার চেষ্টা করেছেন। পক্ষান্তরে বাংলাদেশের অনির্বাচিত সরকার হাঁটছে উল্টো দিকে। এই করোনাভাইরাসের সংকটের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারি অফিসের ব্যয় বাড়িয়েছেন ৯৫ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রধানমন্ত্রীর অফিসের খরচের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে তিন হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা। গত বছর তিন হাজার ৭৪৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পর ব্যাপক সমালোচনা হলেও সরকার এতে কর্ণপাত করেনি।

বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও গাবতলী শহীদ জিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন,  জিয়াউর রহমানের নামফলক মুছে ফেলা এবং মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা কৌশিক আহমেদ সোহাগের ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন রিজভী।